০৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

সিংড়ার চলনবিলে নৌকায় কাটছে আমন ধান

  • প্রকাশের সময় : ০২:৪১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • 44

মোঃ ইব্রাহিম আলী,সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে এখনো জমি থেকে নামেনি বন্যার পানি। হাঁটু থেকে হাটু-উপর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে আছে বেশির ভাগ কৃষিজমি। এর মধ্যেই বাধ্য হয়ে নৌকা ব্যবহার করে আমন ধান কাটছেন কৃষকরা। এতে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি ব্যয়ও বেড়েছে দ্বিগুণ। একবেলা ধান কাটার জন্য শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে প্রতি বিঘায় ৫–৬ মণ ফলন হলেও খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের হাতে থাকছে মাত্র ১–২ মণ ধান।

সরেজমিনে ডাহিয়া ও ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকরা পানিতে দাঁড়িয়ে কষ্ট করে ধান কাটছেন। কাটা ধান নৌকায় বোঝাই করে খোলায় এনে মাড়াই করছেন কৃষকরা। হেমন্তের নতুন ধানে যেখানে সারা দেশে উৎসবের আমেজ, সেখানে চলনবিলের কৃষকদের মুখে শুধু হতাশা ও দুশ্চিন্তা। দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

ইটালী ইউনিয়নের পশ্চিম মাগুড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ভুট্টু জানান, তিন ভাই মিলে ৭০ বিঘা বোনা আমন করেছি। বেশিরভাগ জমিতেই নৌকা নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। পানিতে ধান কাটতে অনেকে রাজি হচ্ছেন না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খেটে শ্রমিকদের ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

ইন্দ্রাসন গ্রামের কৃষক সবুজ আলী জানান, বর্গা নিয়ে ৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। বিঘায় ৫–৬ মণ ফলন হয়েছে। কিন্তু খরচ বাদ দিলে ১–২ মণ ধান ওঠানোই দুষ্কর। বর্গার ধান কীভাবে দেবো—এ চিন্তায় আছি।

ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের কৃষক ফরিদ প্রামাণিক বলেন, প্রতি বছর আমন কাটার পর সরিষা চাষ করি। গত বছর ২০ বিঘা করেছি। কিন্তু এ বছর জমিতে পানি। কবে নামবে জানি না। সরিষার চাষ করতে পারব কি না ভাবনায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বোনা আমন এবং ২৩ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফার বন্যায় কিছু এলাকায় বোনা আমনের ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করছি। চলনবিলের পানি দ্রুত নামছে। সরিষা ও বোরো চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।

জনপ্রিয়

ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দেয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ শুকনো খাবার ও কম্বল দেয়া হয়েছে

সিংড়ার চলনবিলে নৌকায় কাটছে আমন ধান

প্রকাশের সময় : ০২:৪১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ ইব্রাহিম আলী,সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে এখনো জমি থেকে নামেনি বন্যার পানি। হাঁটু থেকে হাটু-উপর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে আছে বেশির ভাগ কৃষিজমি। এর মধ্যেই বাধ্য হয়ে নৌকা ব্যবহার করে আমন ধান কাটছেন কৃষকরা। এতে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি ব্যয়ও বেড়েছে দ্বিগুণ। একবেলা ধান কাটার জন্য শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে প্রতি বিঘায় ৫–৬ মণ ফলন হলেও খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের হাতে থাকছে মাত্র ১–২ মণ ধান।

সরেজমিনে ডাহিয়া ও ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকরা পানিতে দাঁড়িয়ে কষ্ট করে ধান কাটছেন। কাটা ধান নৌকায় বোঝাই করে খোলায় এনে মাড়াই করছেন কৃষকরা। হেমন্তের নতুন ধানে যেখানে সারা দেশে উৎসবের আমেজ, সেখানে চলনবিলের কৃষকদের মুখে শুধু হতাশা ও দুশ্চিন্তা। দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

ইটালী ইউনিয়নের পশ্চিম মাগুড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ভুট্টু জানান, তিন ভাই মিলে ৭০ বিঘা বোনা আমন করেছি। বেশিরভাগ জমিতেই নৌকা নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। পানিতে ধান কাটতে অনেকে রাজি হচ্ছেন না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খেটে শ্রমিকদের ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

ইন্দ্রাসন গ্রামের কৃষক সবুজ আলী জানান, বর্গা নিয়ে ৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। বিঘায় ৫–৬ মণ ফলন হয়েছে। কিন্তু খরচ বাদ দিলে ১–২ মণ ধান ওঠানোই দুষ্কর। বর্গার ধান কীভাবে দেবো—এ চিন্তায় আছি।

ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের কৃষক ফরিদ প্রামাণিক বলেন, প্রতি বছর আমন কাটার পর সরিষা চাষ করি। গত বছর ২০ বিঘা করেছি। কিন্তু এ বছর জমিতে পানি। কবে নামবে জানি না। সরিষার চাষ করতে পারব কি না ভাবনায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বোনা আমন এবং ২৩ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফার বন্যায় কিছু এলাকায় বোনা আমনের ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করছি। চলনবিলের পানি দ্রুত নামছে। সরিষা ও বোরো চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।